ওইসিডির প্রতিবেদন

বিশ্বব্যাপী ইস্পাত শিল্পের সংকট আগামী বছরগুলোয়ও অব্যাহত থাকতে পারে

বিশ্বব্যাপী ইস্পাত শিল্পের সংকট আগামী বছরগুলোয়ও অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)।

বিশ্বব্যাপী ইস্পাত শিল্পের সংকট আগামী বছরগুলোয়ও অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘স্টিল আউটলুক ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী দিনে উৎপাদনক্ষমতা বাড়লেও দুর্বল চাহিদার কারণে ধাতব পণ্যটির ব্যবহার কমে যেতে পারে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নিয়ে চাপে ফেলে দিতে পারে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে একই সময়ে বাজার চাহিদা খুব একটা বাড়বে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার নেমে যেতে পারে ৭০ শতাংশে, যা শিল্পটির লাভ ও স্থায়িত্বের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ওইসিডি বলছে, যেহেতু চাহিদা খুব ধীরে বাড়ছে, তাই উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ছে। তাছাড়া প্রতিযোগিতা সবার জন্য একরকম নয়। কিছু দেশ তাদের ইস্পাত শিল্পকে সরকারিভাবে বড় ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার অনেক দেশে কম সুদে ঋণ, ভর্তুকি, করছাড় ও সস্তায় বিদ্যুৎ-জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদনকারীদের সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

চীনকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ভর্তুকির পরিমাণ ওইসিডি দেশগুলোর তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। এসব ভর্তুকির মধ্যে রয়েছে সরকারি সহায়তা, যেমন কম সুদে ঋণ, নগদ অনুদান, সস্তায় বিদ্যুৎ ও করছাড়।

সরকারি এসব সুবিধার কারণে চীন ২০২৪ সালে রেকর্ড ১১ কোটি ৮০ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশগুলোর ইস্পাত শিল্প বড় ধরনের চাপে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১৯টি দেশ ইস্পাত পণ্য সংক্রান্ত ৮১টি অ্যান্টি-ডাম্পিং মামলা করেছে। এ সংখ্যা ২০২৩ সালের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ও ২০১৬ সালের ইস্পাত সংকটের সময়কার কাছাকাছি। এসব মামলার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল এশীয় উৎপাদকদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে আবার এক-তৃতীয়াংশ ছিল চীনের বিরুদ্ধে।

অনেক দেশ শুধু নির্দিষ্ট পণ্যের বিপরীতে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে ইস্পাত আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশগুলো তাদের স্থানীয় ইস্পাত শিল্পকে রক্ষা করতে এমন কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওইসিডি সতর্ক করে বলেছে, যেসব দেশ রফতানিতে বাধার মুখে পড়েছে, তারা এখন নতুন বাজার খুঁজছে অথবা নিয়মের ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সরকারি সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব হওয়া চীনের এ রফতানি কৌশলের কারণে বৈশ্বিক বাজারে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদি সমন্বিতভাবে এর মোকাবেলা না করা হয়, তাহলে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ওইসিডি মনে করে উৎপাদনক্ষমতা ও চাহিদার মধ্যে যে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তথ্য বিনিময়, নীতিগত সমন্বয় ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে সংকট কমানো সম্ভব। অন্যথায় বৈশ্বিক ইস্পাত শিল্প দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মধ্যেই থাকবে, যার প্রভাব পড়বে রফতানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানে নির্ভরশীল অর্থনীতির ওপর।

আরও